Allah Names

      No Comments on Allah Names

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আল্লাহর ৯৯টি পবিত্র নাম রয়েছে। এগুলোকে একত্রে আসমাউল হুসনা- সুন্দরতম নামসমূহ বলা হয়। ধারাবাহিকভাবে পবিত্র নামগুলোর আলোচনা সংক্ষেপে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হবে ইনশাআল্লাহ। আসমাউল হুসনার আজকের বিষয় ‘আল্লাহ’। ‘আল্লাহ্’ হচ্ছে মহান আল্লাহর জাতি নাম, মৌলিক নাম। আল্লাহ শব্দটি পবিত্র কোরআনে ২৫৮৪ বার এসেছে । এই শব্দের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয় পাওয়া যায় মক্কায় অবতীর্ণ ১১২ নম্বর সূরায়। মহান আল্লাহ বলেন : قل هوالله احد…….
অর্থ : বল, হে নবী! তিনি ‘আল্লাহ’ । তিনি এক ও একক। তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ মুখাপেক্ষীহীন। তিনি জন্ম দেন না এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। কেউ নেই তাঁর সমকক্ষ- সমতুল্য।
চার আয়াত বিশিষ্ট এ সূরায় ১৫ টি শব্দ ৪৭ টি অক্ষর রয়েছে।
এ সূরাটিকে আত-তাওহীদও বলা হয়।
হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইসলাম কবুলের অপরাধে যখন অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছিল , তখন তিনি শুধু আহাদ শব্দটি বারবার উচ্চারণ করছিলেন। মক্কার মুশরিকরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে আল্লাহ ও আল্লাহর বংশ পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে এ সূরাটি নাযিল করা হয়।
সহীহ মুসলিমের বর্ণনানুসারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম একদা সাহাবিদেরকে একত্রিত করেছেন কোরানের এক-তৃতীয়াংশ শোনাবেন বলে। তিনি সেখানে সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করলেন এবং বললেন, এটি পবিত্র কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ।

পবিত্র কোরআনে প্রধানত তাওহীদ রেসালাত ও আখিরাত এই তিনটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং রিসালাতের সম্পূর্ণদায়িত্বই ছিল আল্লাহর ওয়াহদানিয়াত বা একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা। সেই হিসেবেও সূরাটি পবিত্র কুরআনের তিনভাগের একভাগ।

তাফসীর ইবনে কাসীরে আল্লাহ শব্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: যখন ঈহুদিরা বলে, আমরা আল্লাহর পুত্র উজায়েরের উপাসনা করি। খ্রীস্টানরা বলে, আমরা আল্লাহর পুত্র ঈসার উপাসনা করি। জোরাসটিসিয়ানরা বলে, আমরা সূর্য ও চাঁদের উপাসনা করি। পৌত্তলিকরা বলে, আমরা মূর্তি পূজা করি। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন, বল হে নবী: তিনি আল্লাহ এক অদ্বিতীয়। যাঁর কোন সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই। যাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। যাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। যাঁর সমতুল্য কেউ নেই।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে: হে নবী তাদের জিজ্ঞাসা করো, পৃথিবী ও তার মধ্যে যা কিছু আছে সেগুলো কার? যদি তোমরা জানো তবে বল? অবশ্যই তারা বলবেঃ আল্লাহর। বলো, তবে কেন শিক্ষা গ্রহণ করো না?
হে নবী তাদের জিজ্ঞেস করো, সাত আকাশ ও আরশে আজিমের রব কে? অবিলম্বেই তারা বলবে ‘আল্লাহ’।
বল, তবে কেন তোমরা সতর্ক হও না?
হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো, কার মুষ্টিবদ্ধ রয়েছে সবকিছুর কর্তৃত্ব, যিনি সবাইকে আশ্রয় দেন এবং যাঁর ওপর কোনো আশ্রয়দাতা নেই? যদি তোমরা জানো, বলো। অবিলম্বে তারা বলবেঃ ‘আল্লাহ’। বলো, তবে কোন দিকে তোমরা মোহগ্রস্ত হচ্ছো?
– সূরা আল মুমিনুন আয়াত নম্বর ৮৪ থেকে ৮৯।

মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ তিনিই তোমাদের ভ্রমণ করান স্থলভাগে এবং সমুদ্রে। এভাবে তোমরা যখন নৌযানে ভ্রমণ কর এবং সেগুলো আরোহীদের নিয়ে অনুকূল বাতাসে এগিয়ে চলে এবং তাতে তারা আনন্দিত হয়। অতঃপর যখন দমকা হাওয়া এবং সবদিক থেকে আগত উত্তাল তরঙ্গমালা সেগুলোকে আক্রমণ করে এবং তারা মনে করে যে তারা ঘেরাও হয়ে পড়েছে তখন আল্লাহর জন্য আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে তারা কেবল তাঁকেই ডাকতে থাকে। তারা তখন তাঁকে বলে, তুমি যদি আমাদের উদ্ধার করো তাহলে অবশ্যই আমরা শোকরগোজারী হব।
– সূরা ইউনুস আয়াত নম্বর ২২

তিনি ‘আল্লাহ’ এক অদ্বিতীয়। তাঁর কোন সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই। তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। আল্লাহর সমকক্ষ কাউকে মনে করলে কঠিন অপরাধ হবে। ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হবে। সুতরাং কাউকে আল্লাহর সমতুল্য দাঁড় না করিয়ে শিরকমুক্ত ঈমানের চর্চা করার তৌফিক মহান আল্লাহ আমাদেরকে দান করুন। আমীন।
সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *